শুভ জন্মদিন “ঝিলু দি গ্রেট” আলতাফ মাহমুদ : আহসানুল কবির ডালিম

যেকোনো বাংলা গানের সুর কানে ভেসে আসলেই আমার আপনার কথাই প্রথম মনে হয়। কেন মনে হয় সেটা জানিনা।আপনার জীবনের গল্পগুলো যখন শুনি তখন অবাক হয়ে হয়ে যাই। ভিষণ অবাক হয়ে যাই।

 শহীদ আলতাফ মাহমুদ

যখন আপনি ক্লাস ফাইভে তখন গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে আপনি আপনাদের আঙিনার কাঁঠাল গাছে লিখে রেখেছিলেন,

“ঝিলু দ্যি গ্রেট”

আপনার ডাক নাম ছিলো ঝিলু। আপনার আব্বা সেটা দেখে হাসতে হাসতে বলেছিলেন,

“… তুই যে গান করিস সেসব গান গেয়ে কি বিখ্যাত হতে পারবি? “

আপনি বলেছিলেন,

“…একদিন আমি গান গেয়েই বিখ্যাত হবো বাবা”।

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… ”

গানটার সুর কি তখনই আপনার মধ্যে খেলা করতো ? কি জানি হবে হয়তো ! মহান মানুষদের জীবন বড় বিচিত্র হয় !

আপনি দারুণ ফ্যাশন সচেতন ছিলেন। পাজামা-পাঞ্জাবী ধবধবে সাদা হওয়া চাই। ক্লিন সাদা। চশমা কালো, মোটা ফ্রেমের। বেশ কয়েকটা চশমা ছিলো আপনার কিন্তু সবগুলোই কালো ও মোটা ফ্রেমের। আবার শার্ট, প্যান্ট, টাইও পরতেন। জেমস বন্ডকে অনুসরণ করে বাটারফ্লাইও ব্যবহার করতেন আপনি। কতটা সৌখিন হলে মানুষ এতোসব করে! এসব ভাবি আর আপনাকে চোখের সামনে দেখতে পাই। স্পষ্ট দেখতে পাই।

চুলের কাটিং বদলাতেন আপনি মাঝে মধ্যেই। কদিন পরপরই। একবার আপনার নামে হুলিয়া হলে চোখের ভ্রু পর্যন্ত কামিয়ে বাসায় ফিরেছিলেন। সেটা দেখে বাসার সবাই কি হাসাহাসি। আপনাকে আপনার স্ত্রীও প্রথম চিনতে পারেননি। এরকম বহুভাবে আপনি চেহারা ঢেকে রাখতেন!

‘৭১ কত মানুষকে কতভাবেই বদলে দিয়েছে। আপনি ছিলেন সুরের মানুষ। নিপাট ভদ্রলোক। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে নেমে পরলেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উল্টো দিকের বাসা আপনাদের। কি সাহস দেখিয়ে বাড়িটাকে বানিয়ে ফেললেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল। বানালেন গেরিলা যোদ্ধাদের জমানো অস্ত্রের লোকাল গোডাউন। দেশটা কতটা করে বুকের মধ্যে জায়গা করে নিলে একজন শিল্পী এরকম দু:সাহস দেখায়। এসব ভাবি আর আমরা আপনাকে স্পষ্ট চোখের সামনে দেখতে পাই।

এই যে শুধুমাত্র গানে সুর দেবার জন্য আপনাকে এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনীরা আপনাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করলো, নিখোঁজ হবার কারণে আপনার লাশ পর্যন্ত পরিবার পেলনা। সেই দেশের মাটিতে ‘৭১ এর বিরোধিতাকারী, যুদ্ধাপরাধীদের কবর হয়। আপনার পবিত্র রক্তে যে মাটি স্বাধীন হয়েছে সেই মাটি অপবিত্র হয়ে যায় চোখের সামনে। বুক ফেটে যায়। আপনি কি এসব দেখে ওপাড় থেকে চোখের জল ফেলেন !শাওন আপাকে আমরা বুবু ডাকি। সেই দাবিতে আমরাও আপনার সন্তান। আপনাকে বাজান ডাকি।

আচ্ছা বাজান, যেখানে আছেন সেখানেও কি আগের মতই এমন সৌখিন থাকেন ! সব কি অবিকল আছে ! সেখানেও কি আরেকটা বাংলাদেশ আছে যার মাটি ও মানুষের জন্য আপনি অসাধারণ সব গানের সুর করে বেড়াচ্ছেন ? খুব জানতে ইচ্ছে করে বাজান, খুব !

আজ আপনার জন্মদিন।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা বাজান।

(টিম ক্র‍্যাকড এর পক্ষ থেকে আহসানুল কবির ডালিম)

 আহসানুল কবির ডালিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *