ভারতের বিজয় উৎসবের কথা শুনে আপনার গা জ্বালা করে কেন?

ইমতিয়াজ মাহমুদ

 

(১)
আপনি কি জানেন যে ১৯৭১ সনের শেষ দিকে আগ্রার তাজমহল বেশ কিছুদিন মোটা চটের আবরণে ঢাকা ছিল? পাকিস্তানের বিমান হামলা থেকে রক্ষা করতে ওরা তাজমহলকে মোটা রুক্ষ চটের চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। সাদা ধবধবে মার্বেলের তাজমহল চাঁদের আলোয় ঝলমল করে দেখতে অনেক সুন্দর বটে, কিন্তু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে সে বড় বিপদজনক।

এটা হচ্ছে ১৯৭১ সনের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময়কার কথা। হ্যাঁ, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ। আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা যখন আলাপ করি, যখন ষোলই ডিসেম্বরের কথা আলোচনা করি, তখন আমরা ভুলে যাই যে আমাদের যুদ্ধের সাথে সাথে সেসময় ভারত পাকিস্তানেরও যুদ্ধ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধ কেবল আমাদের এইখানে অর্থাৎ বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ ছিল না- পশ্চিম রণাঙ্গনে ভারত আর পাকিস্তানের যে যুদ্ধ সেটা ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একান্তই ভারতের যুদ্ধ।

আজকে যখন আমরা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করি ঠিক একি তারিখে ভারতও যখন বিজয় দিবস পালন করে তাতে আপনার জ্বলে কেন? পাকিস্তান যে ভারতের কাছেও হেরেছে তাতে আমার জ্বলার কি আছে। আমি তো ভারতের সাথে একইসাথে বিজয়দিবস পালন করতে চাই আর প্রতিটি ১৬ই ডিসেম্বরে ভারতকে একটা ধন্যবাদ বার্তা পাঠাতে চাই। ধন্যবাদ বার্তা পাঠাতে চাই কারণ ওরা আমদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে আবার নিজের নিজেরাও পাকিস্তানের পশ্চাৎদেশে কষে লাথি হাঁকিয়েছে পশ্চিম রণাঙ্গনে।

পাকিস্তানের পেছনে যেই লাথি মারবে সেই আমার বন্ধু। পাকিস্তানের পেছনে যেই বাঁশ দেবে, তাকেই আমি ধন্যবাদ দেব। এই কথাটা স্পষ্ট করে বলতে এতো ইয়ে লাগে কেন? পাকিস্তান কি আপনার ভাশুর লাগে? গোপন পিতা? নাকি খালাত ভাই?

(২)
তাইলে তো যুদ্ধ নিয়ে আরও কয়েকটা কথা বলতে হচ্ছে। বন্ধু ইলিয়াস কবির রানা প্রসঙ্গটা ধরিয়ে দিল- ১৬ই ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণের দলিলে কেন জেনারেল অরোরা স্বাক্ষর করলেন, কেন জেনারেল ওসমানী নয় এইটা। আরেকজন আবার ডঃ আসিফ নজরুলের একটা পোস্ট দেখালো। সেখানে আসিফ নজরুল একরকম একটা ভারতবিরোধী ইয়ে তুলেছেন ভারত নাকি আমাদের বিজয়কে ম্লান করে দিচ্ছে আর এই বয়ানের জন্যেই নাকি জেনারেল ওসমানীকে সেদিন থাকতে দেওয়া হয়নি ইত্যাদি।

দেখেন, আপনি যদি ভারত বিরোধী হয়ে থাকেন, হতে পারেন। সেটা অস্বাভাবিক কিছু না। পাশাপাশি দুই দেশ থাকলে ওদের বৈষয়িক স্বার্থ, সাংস্কৃতিক সংঘাত এইসব নিয়ে সাধারণত মৈত্রীর চয়ে বৈরিতাই বেশী থাকে। আর আমাদের এখানে একটা সাম্প্রদায়িক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। বড় দেশ ছোট দেশ সেটাও একটা বিষয়। সব মিলিয়ে আমাদের এখানে একটা ভারত বিরোধী আবহ আছে, সেটা অস্বীকার বা উপেক্ষা করতে পারবেন না। কিন্তু পণ্ডিত ধরনের লোকজন যখন এইটাকে উস্কে দেন, তাও আবার ঐতিহাসিক ঘটনা ও অধ্যায়ের খণ্ডিত ও ভ্রান্ত চিত্র তুলে দিয়ে, সেটা তো অন্যায় আরকি।

ডঃ আসিফ নজরুল অন্যায়টা কি বলেছেন সেটা বলে নিই আগে।

প্রথমে দেখেন তিনি কি বলেছেন। তিনি বললেন

“আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকে শুধুই ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ বলে চালিয়ে দিচ্ছে ভারতের একশ্রেনীর সামরিক কর্তা আর লেখক। হয়তো এই বয়ান দেয়ার চিন্তা আর মানসিকতা থেকেই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনীর আত্নসমর্পনের সময় সেখানে রাখা হয়নি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (তখনকার কর্ণেল) সমানীকে।
১৯৭১ ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এখানে ভারতের ভূমিকা মুখ্য ছিল না, ছিল সহায়কের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সত্যিই থাকলে এসব কথা জোর দিয়ে বলতে হবে।”

(৩)
ও ভাই, আমাদের যুদ্ধ আমাদের। সেটা মূলত আমরাই লড়েছি। ভারত সেখানে যুক্ত হয় ১৯৭১এর ডিসেম্বরে। ভারত যোগ দেওয়ার তেরদিন পরে পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পণ করে। আমাদের বাহিনীর সাথে যখন ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করে- ডিসেম্বরের তিন তারিখ থেকে- ততদিনে আমাদের মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানিদেরকে মেরে মোটামুটি সারা দেশ থেকে গুটিয়ে ক্যান্টনমেন্ট আর বড় বড় শহরগুলিতে এনে আটকেছে। ততদিনে ঢাকায়ও গেরিলা অপারেশন শুরু হয়ে গেছে। ঢাকার আশেপাশে আমাদের যোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছে। আমিনবাজারের ওখানে অবস্থান নিয়েছে নাসিরুদ্দিন বাচ্চুদের দল। শিল্পী শাহাবুদ্দিনের দলটি ছিল বসিলার ওখানে। টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী অগ্রসর হয়েছে অনেকখানি। এইরকম আপনি পুরো চিত্রটা বইপত্র থেকে জানতে পারবেন।

পাকবাহিনীর দোসর আলবদররাও এই প্রচারণাই চালিয়েছে

ডিসেম্বরের শুরুতে পাকিস্তান যদি আগ বাড়িয়ে ভারতে আক্রমণ না করতো তাইলে কি ভারত আমাদের এখানে ওদের সেনাবাহিনী পাঠাতো? হয়তো পাঠাতো, হয়তো পাঠাতো না। একটা কথা কোথায় যেন পড়েছিলাম যে মিসেস গান্ধী সেসময়ের ইন্ডিয়ান আর্মি চীফ জেনারে মানেক শ’কে এপ্রিল মাসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কি পাকিস্তানে হামলা করতে প্রস্তুত আছেন কিনা। জেনারেল মানেক শ নাকি সেসময়ে বলেছিলান যে তিনি শীতের আগে তাঁর বাহিনীকে বাংলাদেশে বা পাকিস্তানে পাঠাতে রাজি না। কেন? কারণ তাঁর ট্যাঙ্ক ভেজা নরম মাটিতে স্বচ্ছন্দে চলতে পারবে না। তাছাড়া চীন নিয়েও তাঁর ভয় ছিল। হিমালয়ের শীত জেঁকে বসলে চীন ঐদিক দিয়ে আক্রমণ করতে পারবে না সহজে। সেটাও তাঁর বিবেচনায় ছিল। জেনারেল মানেক শ নাকি মিসেস গান্ধীকে বলেছিলেন, আপনি যদি এখনই আক্রমণ করতে চান, তাইলে আমি পদত্যাগ করি, আপনি নতুন আর্মি চীফ নিয়োগ করে নেন।

এই ঘটনা সত্যি কিনা জানিনা। কিন্তু ঘটনা যেটা ঘটেছে সেটা হচ্ছে যে ডিসেম্বরের শুরুতে পাকিস্তান একযোগে ভারতের ১৭টা (নাকি ১৩টা) বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ করে। বেশিরভাগই ছিল কাশ্মীর পাঞ্জাব রাজস্থানের দিকে সমান্ত বরাবর। কিন্তু কিছু ছিল অনেক ভিতরেও- যেমন আগ্রা। আগ্রার বিমানঘাঁটিতেও পাকিস্তান বিমান হামলা করে। সেইসময়ই ভারতীয়রা আগ্রার তাজমহল মোটা চটের চাদরে ঢেকে দেয় কিছুদিনের জন্যে।

পাকিস্তানীরা তো ইন্ডিয়াতে প্রথম হামলা করে। কিন্তু এরপর যেটা হয়েছিল সেটা হচ্ছে পাকিস্তানের জন্যে চরম অপমানের অধ্যায়।

(৪)
আপনি গুগল করলেই এইসব তথ্য পাবেন। নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষ সূত্র বেছে নিলেই দেখবেন ১৯৭১র ডিসেম্বরে পাকিস্তানের কি হাল হয়েছিল। আমাদের এখানে মানে বাংলাদেশের যুদ্ধের কথা বলছি না। পশ্চিম রণাঙ্গনের কথা, অর্থাৎ সেসময়ের পশ্চিম পাকিস্তান আর ভারতের মধ্যে যে ফ্রন্ট, সেই রণাঙ্গনের কথা।

ভারতীয় বাহিনী জলে স্থলে অন্তরীক্ষে সমন্বিত আক্রমন শুরু করার পর পাকিস্তানী বাহিনীর মধ্যে বাবাগো মাগো বলে কান্নার রোল শুরু হয়ে যায়। প্রথম কয়েকবার পাকিস্তানী বিমান বাহিনী খানিকটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিপুল সংখ্যা ও বৈচিত্র্য এবগ্ন ওদের বৈমানিকদের সাহসিকতার কাছে ওরা নৈতিকভাবেই হেরে বসে। আপনি উইকিপিডিয়ায় বা এইরকম ফ্রিতে পাওয়া যায় যেসব সূত্র সেগুলিতে গিয়ে দেখতে পারেন, কতো জায়গায় পাকিস্তানের পাইলটরা বিমান নিয়ে উড়তে অস্বীকার করে। পাকিস্তানী আর্মির অফিসার আর জওয়ানরা বন্দুক কামান ফেলে পালাতে শুরু করে অনেক ফ্রন্টে।

পাকিস্তানীদেরই রিপোর্ট পাবেন ওদের কি বেহাল দশা ছিল। নিজেদের বিমান টিমান তো ছিলই, পাকিস্তান আবার বিমান নিয়ে এসেছিল সৌদি আরব মিশর আরও কোন কোন দেশ থেকে। ভারতকে একটু শিক্ষা দিয়ে নিই এইরকম বলে। ইন্ডিয়া সবগুলিকে মেরে ওদের ইয়েতে ঢুকিয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে পরে ৬শ নাকি ৭শ বর্গমাইল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পরে যখন ১৬ই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনী হাঁটু গেঁড়ে মাথা নত করে সারেন্ডার করেছে তখন পশ্চিম রণাঙ্গনেও সিজ ফায়ার হয়। তারও পরে আমেরিকা রাশিয়া এইসব মুরুব্বীদের হস্তক্ষেপে ভারত সিমলা চুক্তিতে দখল করা যায়গাগুলি পাকিস্তানকে ফেরত দেয়।

এখন আমাকে আপনারা বলেন, ভারত যদি ওদের এই বিজয়টা ১৬ই ডিসেম্বরে উদযাপন করে আর ওরা পাক্সিতানিদেরকে কিভাবে প্যাদিয়েছে সেইটা মহা উল্লাসে আলোচনা করে তাতে আমাদের কিবা যায় আসে? আরে আমার তো তাতে বরং একটু আনন্দই হবার কথা নাকি?

(৫)
এবার আসেন ইস্টার্ন ফ্রন্টের কথা, মানে কিনা আমাদের এখানকার কথা। আপনার কি মনে হয় যে ভারত কখনো আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিতে ছেয়েছে? বা ভারত বাংলাদেশকে দখল করতে চেয়েছে? এইটা যদি আপনার মনে হয় তাইলে এখুনি ভ্রান্তি দুর করেন। ভারত যদি চাইতো তাইলে আমাদের এই ভূখণ্ড ১৯৬৫ সনেই দখল করে নিতে পারতো। ১৯৬৫ সনে যখন ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়- তখন আমরা পাকিস্তানের অংশ- তখন গোটা পাকিস্তানের সকল সৈন্য সকল বন্দুক সকল কামান সবকিছু পশ্চিম পাকিস্তান রক্ষার কাজে লাগানো হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে এইটাও ছিল একটা অভিযোগ, যে পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার দিকে কেন্দ্রীয় সরকার অবহেলা দেখিয়েছে। ভারত সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান আক্রমণ করেনি।

আর ১৯৭১ সনে? ভারত প্রথমে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে, মেনে নিয়েছে যে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ এবং আমাদের সরকারকেও মেনে নিয়েছে তারপর ওদের সৈন্য পাঠিয়েছে। তাও ওদের সৈন্য কেবল ভারতীয় সেনা হিসেব বাংলাদেশে আসেনি- এসেছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর অংশ হিসাবে যৌথ কমান্ডের অধীনে। এই যে যৌথ কমান্ড, এইটা কোন কথার কথা ছিল না, এটা অফিশিয়াল অবস্থান এবং বাস্তব অবস্থান। এই যে আপনারা রেসকোর্সের আত্মসমর্পণের ছবি দেখেন, সেই আত্মসমর্পণের দলিলটা খুলে দেখেন। ফ্রিতে পাওয়া যায় অনলাইনে।

কি আছে সেই আত্মসমর্পণের দলিলে? প্রথম লাইনটাই দেখেন,

“The PAKISTAN Eastern Command agree to surrender all PAKISTAN Armed Forces in BANGLA DESH to Lieutenant-General JAGJIT SINGH AURORA, General Officer Commanding in Chief of Indian and BANGLA DESH forces in the Eastern Theatre.”

মানে কি? মানে হচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল পাকিস্তানী সৈন্যকে বাংলদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর কমান্ডারে কাছে সমর্পণ করা। অর্থাৎ পাকিস্তানী বাহিনী বলছে, যে এই যে এতদিন আমরা ছিলাম দখল করে আমরা বাংলাদেশ ছিলাম, পূর্ব পাকিস্তানে নয়। আর এই যে এখন আমরা আত্মসমর্পণ করছি, সেটা করছি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর কমান্ডারের কাছে, ভারতের কাছে নয়।

আর ভারতের জেনারেলও কিন্তু সেটাতে স্বাক্ষর করেছেন। সকলেই বলছেন যে দেশটা স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ, সকলেই বলছেন যে বাহিনীটা বাংলাদেশ ভারত যৌথ বাহিনী। তাইলে ভারত আপনার বিজয় ছিনিয়ে নিল কিভাবে?

(৬)
শোনেন, অনেক লম্বা হয়ে গেছে, সংক্ষেপে বলি। ১৯৭১এ আমাদের যুদ্ধ যেমন হয়েছে তেমন ভারত পাকিস্তান যুদ্ধও হয়েছে। আমাদের যুদ্ধে আমরা জিতেছি এটা যেমন সত্যি, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ভারত জিতেছে সেটাও সত্যি। আমাদের বিজয় দিবস আমরা করি, ওদের বিজয় দিবস ওরা কেন করবে না? করতে দেন।

ইমতিয়াজ মাহমুদ
সিনিয়র আইনজীবী

আমাদের বিজয়ে ওদের সহায়তা আছে বটে, কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা আগে এসেছে তারপর বিজয়। আমাদের স্বাধীনতা আমাদেরই। ভারত আমাদের সাথে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে আমাদের স্বাধীনতা মেনে নিয়ে আমাদের সরকারকে মেনে নিয়ে। এইখানে কোন অস্পষ্টতা নাই। আপনি কেন খালি খালি ঘোলা করে দেখছেন? ভারতের বিজয় উৎসবে যদি আপনার গা জ্বলে তাইলে তো সেটা সন্দেহের কথা আরকি। আর কি বলতে পারি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *